ফ্রিল্যান্সিং: জিরো থেকে প্রো — পর্ব ৩: নিশ ও পজিশনিং
"আমি সব পারি" মার্কেটপ্লেসে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান। নিশ কীভাবে বাছবে, চাহিদা আছে কি না সেটা কীভাবে যাচাই করবে, আর একটা নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি কীভাবে বানাবে।
“আমি সব পারি” মার্কেটপ্লেসে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান। নিশ কীভাবে বাছবে, চাহিদা আছে কি না সেটা কীভাবে যাচাই করবে, আর একটা নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি কীভাবে বানাবে।
দুইজন সেলার, একই স্কিল
দুটো Fiverr গিগ পাশাপাশি। দুজনেই ঢাকায়, দুজনেরই তিন বছরের ওয়েব ডেভেলপমেন্টের অভিজ্ঞতা, দুজনেরই স্ট্যাক প্রায় এক।
আল-কিন্দির গিগ: “I will develop a professional website using HTML, CSS, JavaScript, React, WordPress, PHP, Laravel and MySQL”
মরিয়ম আল-আসতুরলাবির গিগ: “I will fix your Shopify store’s slow mobile checkout and pass Core Web Vitals”
আল-কিন্দির তালিকা লম্বা, মরিয়মের একটা বাক্য। তবু মরিয়মের কাছে মেসেজ আসে, আল-কিন্দির কাছে আসে না। কারণটা তিন স্তরের, আর তিনটাই আলাদা।
প্রথম স্তর — সার্চ। “website” লিখে আল-কিন্দি লক্ষ লক্ষ গিগের সারিতে দাঁড়িয়েছে, যেখানে সামনের সবার হাজার হাজার রিভিউ। একজন নতুন সেলারের ওই সারিতে দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত শূন্য। মরিয়মের সারিটা অনেক ছোট — সেখানে নতুন হয়েও প্রথম পাতায় ওঠা সম্ভব।
দ্বিতীয় স্তর — বায়ারের মাথা। বায়ার “website” খোঁজে না। বায়ার খোঁজে “আমার চেকআউট মোবাইলে স্লো”। মরিয়মের টাইটেল ঠিক সেই বাক্যটাই ফিরিয়ে দিচ্ছে, তাই বায়ার নিজের সমস্যাটা সেখানে চিনতে পারে। আল-কিন্দির টাইটেল থেকে বায়ারকে নিজে অনুবাদ করে নিতে হয় — আর ক্লান্ত মানুষ অনুবাদ করে না, স্ক্রল করে।
তৃতীয় স্তর — দাম। “একটা ওয়েবসাইট” একটা পণ্য, আর পণ্যের দাম বাজার ঠিক করে — সেখানে তোমার প্রতিযোগী ৩০ ডলারে দিচ্ছে। “আমার স্টোরের চেকআউট স্লো, প্রতিদিন কার্ট ছেড়ে চলে যাচ্ছে” একটা ব্যথা, আর ব্যথার দাম বায়ার নিজে হিসাব করে — সেখানে ২৫০ ডলার সস্তা মনে হয়।
এটাই নিশ। জিনিসটা নিজেকে ছোট করা না, ছোট সাজাও না — জিনিসটা হলো তোমার আসল দক্ষতা থেকে সবচেয়ে শক্ত ও সবচেয়ে দামি অংশটা বেছে নিয়ে সামনে রাখা।
১. “সব পারি” কেন মরে
দেশের বাজারে “সব পারি” একটা শক্তি। ছোট এজেন্সি, বাজেট কম, তাই যে ছেলেটা ডিজাইন-ডেভেলপ-ডেপ্লয় তিনটাই সামলায় সে বেশি মূল্যবান।
মার্কেটপ্লেসে একই বাক্য উল্টো কাজ করে, আর তিনটা আলাদা কারণে।
কারণ এক — সার্চ একটা করে ইনটেন্টে কাজ করে। বায়ার একটা প্রশ্ন নিয়ে আসে, একটা। যে গিগটা ওই একটা প্রশ্নের সবচেয়ে সরাসরি উত্তর, সেটাই ম্যাচ করে। দশটা জিনিস একসাথে বলা গিগ কোনো একটাতেই সবচেয়ে ভালো ম্যাচ না — তাই সে সব জায়গায় দ্বিতীয় সারিতে থাকে, কোথাও প্রথম না।
কারণ দুই — বায়ার ঝুঁকি কমাতে চায়, দক্ষতা বাড়াতে না। বায়ারের সবচেয়ে বড় ভয় টাকা নষ্ট হওয়া আর সময় নষ্ট হওয়া। “আমি এটা পারব” তাকে বলে যে তুমি হয়তো পারবে; “আমি গত বছর এই জিনিসটা ৪০ বার করেছি” তাকে বলে যে তুমি পেরেছ। জেনারালিস্টের তালিকা সম্ভাবনার কথা বলে, বিশেষজ্ঞের বাক্য ইতিহাসের কথা বলে।
কারণ তিন — স্মৃতি ও রেফারেল। একজন খুশি ক্লায়েন্ট তার বন্ধুকে বলে “ওকে দিয়ে আমার Shopify স্পিড ঠিক করিয়েছিলাম”। সে কখনো বলে না “ওকে দিয়ে বিভিন্ন জিনিস করানো যায়”। রেফারেল কেবল নির্দিষ্ট পরিচয়ের গায়েই লাগে।
নিশ মানে অন্য কাজ ছেড়ে দেওয়া না। মরিয়ম WordPress-ও পারে, ল্যান্ডিং পেজও বানায়। কিন্তু সে জানে প্রথম দশ সেকেন্ডে বায়ারের মাথায় একটাই জিনিস ঢোকানো যায়, তাই সে সবচেয়ে শক্ত জিনিসটা বেছেছে। বাকিটা কথোপকথনে বেরোয় — বেরোনোর সুযোগটাই তো সে তৈরি করছে।
২. নিশের তিনটা অক্ষ
তোমার পরিচয় তিনটা জিনিস দিয়ে তৈরি হতে পারে। বেশিরভাগ নতুন সেলার শুধু তৃতীয়টা লেখে — যেটা সবচেয়ে কম ওজনের।
| অক্ষ | উদাহরণ | ওজন |
|---|---|---|
| ইন্ডাস্ট্রি | Shopify স্টোর, SaaS, রিয়েল এস্টেট, কোচ ও কনসালট্যান্ট | সবচেয়ে বেশি — ভাষা ও প্রেক্ষাপট জানা লাগে |
| ফলাফল | কনভার্শন, স্পিড, র্যাংকিং, রিটেনশন, খরচ কমানো | বেশি — এটাই বায়ারের আসল আগ্রহ |
| টুল | React, Figma, Webflow, Premiere Pro | সবচেয়ে কম — সবাই একই তালিকা লেখে, আর বায়ার এটা চায় না |
সবচেয়ে শক্ত পজিশনিং হলো ইন্ডাস্ট্রি × ফলাফল, টুলটা তার পরে সহায়ক তথ্য হিসেবে:
- “Shopify স্টোরের চেকআউট স্পিড — Liquid, Core Web Vitals”
- “B2B SaaS-এর অনবোর্ডিং ইমেইল সিকোয়েন্স — Customer.io”
- “ইউটিউব শিক্ষামূলক চ্যানেলের রিটেনশন এডিট — Premiere Pro, After Effects”
- “রেস্টুরেন্টের অনলাইন অর্ডার পেজ — WordPress, WooCommerce”
চারটাই এক লাইন, চারটাই মনে রাখা যায়, আর চারটা থেকেই একজন বায়ার সাথে সাথে বুঝতে পারে তোমাকে কোন কাজে লাগাবে।
কোন নিশটা তোমার — সেটা বের করার প্রশ্ন
অনেকে বলে “আমার তো কোনো নিশ নেই, আমি তো সাধারণ কাজই করেছি”। প্রায় সবসময়ই এটা ভুল। চারটা প্রশ্ন করো:
- গত দুই বছরে কোন ধরনের কাজে সবচেয়ে বেশি সময় কেটেছে? দশটা প্রোজেক্টের তালিকা লিখে ফেলো, তারপর দলে ভাগ করো — একটা দল প্রায় সবসময়ই বাকিদের চেয়ে বড় হয়।
- কোন কাজটা তোমার কাছে সহজ কিন্তু অন্যরা আটকায়? ওটাই তোমার সুবিধা, আর ওটা তুমি প্রায়ই খেয়াল করো না কারণ তোমার কাছে সেটা তুচ্ছ মনে হয়।
- কোন সমস্যাটা আবার দেখলে তুমি চিনতে পারবে — কারণ এর ভেতরের ফাঁদগুলো তুমি নিজে খেয়েছ? ফাঁদ চেনাটাই অভিজ্ঞতার সংজ্ঞা।
- কোন ইন্ডাস্ট্রির ভাষা তুমি বোঝো? তুমি যদি জানো “AOV” আর “cart abandonment” মানে কী, তুমি ই-কমার্স বায়ারের সাথে দুই বাক্যে বিশ্বাস তৈরি করতে পারো।
চতুর্থ প্রশ্নটাকে অবহেলা কোরো না। মার্কেটপ্লেসে ভাষা জানাটা প্রায়ই স্কিলের সমান দামি, কারণ বায়ার আগে বোঝে তুমি তার জগৎ চেনো কি না, তারপর যাচাই করে তুমি কাজটা পারো কি না।
৩. নিশ কতটা সরু হবে
দুই দিকেই ফাঁদ আছে।
খুব চওড়া হলে তুমি অদৃশ্য — এটা আমরা দেখলাম। কিন্তু খুব সরু হলেও সমস্যা: “আমি শুধু হোমিওপ্যাথিক ক্লিনিকের জন্য Webflow সাইট বানাই” — চাহিদা এতই কম যে মাসে একটা অর্ডারও নাও আসতে পারে।
একটা কাজের নিয়ম: নিশটা এত সরু হোক যে তুমি প্রথম পাতায় উঠতে পারো, কিন্তু এত সরু না যে সপ্তাহে দশটার কম জব পোস্ট হয়।
দ্বিতীয় অংশটা যাচাইযোগ্য, আর সেটাই পরের সেকশন।
আরেকটা ব্যবহারিক দিক: নিশ কোনো আজীবনের শপথ না। প্রথম তিন মাসের নিশ তোমার পরীক্ষা, তোমার পরিচয় না। ডেটা আসার পর সরে যাওয়াই স্বাভাবিক। যেটা কাজ করে না সেটা হলো প্রতি দুই সপ্তাহে বদলানো — তাতে কোনো নিশেই যথেষ্ট ডেটা জমে না।
৪. চাহিদা যাচাই করার পদ্ধতি
এটাই সেই অংশ যেটা প্রায় কেউ করে না, অথচ এতে লাগে দুই ঘণ্টা এবং এটা তিন মাস বাঁচায়। একটা স্প্রেডশিট খোলো, তিনটা সম্ভাব্য নিশ পাশাপাশি রাখো, আর নিচের কাজগুলো করো।
ধাপ ১ — Upwork-এ চাহিদা গোনো
Upwork-এ তোমার নিশের শব্দ দিয়ে সার্চ করো, তারপর ফিল্টার দিয়ে গত ৭ দিনের পোস্ট দেখো। তিনটা সংখ্যা টুকে রাখো:
- গত ৭ দিনে কতগুলো প্রাসঙ্গিক জব পোস্ট হয়েছে
- তার মধ্যে কতগুলোতে বায়ারের পেমেন্ট মেথড ভেরিফায়েড
- সাধারণ বাজেট রেঞ্জ কেমন
সপ্তাহে দশটার কম প্রাসঙ্গিক পোস্ট মানে নিশটা সম্ভবত খুব সরু। সপ্তাহে দুইশো পোস্ট আর প্রতিটায় পঞ্চাশটা প্রপোজাল মানে খুব চওড়া।
ধাপ ২ — Fiverr-এ প্রতিযোগিতা পড়ো
তোমার নিশের সার্চে প্রথম পাতার আটটা গিগ খোলো, আর প্রতিটার জন্য টুকে রাখো: দাম, ডেলিভারি টাইম, রিভিউ সংখ্যা, আর ঠিক কী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
দুটো জিনিস খুঁজছ। এক, কেউ কি নতুন? প্রথম পাতায় যদি ৫০-এর কম রিভিউয়ের একটা গিগও থাকে, তাহলে ঢোকার দরজা খোলা। সবার যদি হাজার রিভিউ হয়, দরজা বন্ধ — অন্য দিক থেকে ঢুকতে হবে।
দুই, সবাই কি একই কথা বলছে? আটটার সাতটা যদি একই প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে অষ্টম দাবিটাই তোমার সুযোগ — একটা আলাদা কোণ, যেটা কেউ বলছে না।
ধাপ ৩ — বায়ারের ভাষা সংগ্রহ করো
বিশটা জব পোস্ট পড়ো আর বায়ার নিজের সমস্যাটা যে শব্দে বর্ণনা করে সেগুলো হুবহু টুকে রাখো। এই তালিকাটা পরে তোমার গিগ টাইটেল, ডেসক্রিপশন আর প্রপোজালের কাঁচামাল।
বায়ার কখনো লেখে না “I need Core Web Vitals optimisation”। সে লেখে “my site takes forever to load on phones and my ads are getting expensive”। যে গিগ দ্বিতীয় বাক্যটা ব্যবহার করে, সেটা বেশি বায়ারের চোখে ধরা পড়ে।
ধাপ ৪ — টাকার হিসাব করো
সবচেয়ে সরল অথচ সবচেয়ে উপেক্ষিত ধাপ। একটা অর্ডারে তোমার কত ঘণ্টা লাগবে, তার বদলে কত পাবে — প্ল্যাটফর্মের কমিশন আর টাকায় রূপান্তরের পরে?
মাথায় রাখো, প্ল্যাটফর্ম তোমার আয়ের একটা অংশ কমিশন হিসেবে কাটে, আর টাকা তোলার সময়ও কিছু ফি আর এক্সচেঞ্জ রেটের মার্জিন যায় — সব মিলিয়ে ঘোষিত দামের চেয়ে হাতে কম আসে। প্রতিটা নিশের হিসাব ঘণ্টাপ্রতি নিট আয়ে করো, অর্ডারের ট্যাগ প্রাইসে না। ২০ ডলারের একটা কাজ যেটায় ছয় ঘণ্টা আর তিনটা রিভিশন লাগে, সেটা ব্যবসা না — সেটা ক্ষতি।
এই চারটা ধাপ তিনটা সম্ভাব্য নিশের জন্য করো, একটার জন্য না। পাশাপাশি দেখলে সিদ্ধান্তটা প্রায় নিজে থেকেই বেরিয়ে আসে — সাধারণত একটাতে চাহিদা ভালো আর প্রতিযোগিতা সহনীয়, আর সেটাই তোমার প্রথম তিন মাসের নিশ।
৫. দাম দিয়ে আলাদা হওয়া যায় না
তোমার সারিতে এমন সেলার আছে যারা একই কাজ কয়েক ডলারে করে দেবে। এটা বাস্তবতা, আর এটা বদলাবে না।
দামে ওদের হারানো যায় না, আর হারালেও পুরস্কারটা তুমি চাও না। কম দামের বায়ার সবচেয়ে বেশি সময় নেয়, সবচেয়ে বেশি রিভিশন চায়, সবচেয়ে বেশি ক্যানসেল করে, আর সবচেয়ে সহজে খারাপ রিভিউ দেয়। মানে সস্তা অর্ডারগুলো শুধু কম আয় দেয় না — ওগুলো তোমার মেট্রিকও নষ্ট করে, আর মেট্রিক নষ্ট হলে র্যাংক নামে, আর র্যাংক নামলে ভালো বায়ারও আসে না। এটা একটা নিচের দিকে ঘোরা চক্র।
তাহলে কী দিয়ে আলাদা হবে? চারটা জিনিস, দামের চেয়ে সবগুলোই টেকসই।
- নির্দিষ্টতা — “ওয়েবসাইট” না, “Shopify চেকআউট”। এটাই সবচেয়ে সস্তা ও সবচেয়ে কার্যকর পার্থক্য।
- নিশ্চয়তা — পরিষ্কার ডেলিভারি টাইম, পরিষ্কার স্কোপ, পরিষ্কার রিভিশন সংখ্যা। অনিশ্চয়তা বায়ারের সবচেয়ে বড় খরচ।
- প্রক্রিয়া — তুমি কীভাবে কাজ করো সেটা তিন ধাপে লিখে দেওয়া। প্রক্রিয়া দেখলে বায়ার ধরে নেয় তুমি এটা আগেও করেছ।
- যোগাযোগ — দ্রুত, পরিষ্কার, পূর্বানুমানযোগ্য। বহু বায়ার আগের ফ্রিল্যান্সারের সাথে এখানেই পুড়েছে, আর তারা এর জন্য বেশি দিতে রাজি।
শুরুতে দাম কম রাখা আর দামে প্রতিযোগিতা করা এক জিনিস না। প্রথমটা একটা সাময়িক কৌশল — প্রথম কয়েকটা রিভিউ কেনার জন্য একটা সীমিত, ছোট স্কোপের অফার। দ্বিতীয়টা একটা স্থায়ী অবস্থান, আর ওখান থেকে বেরোনো কঠিন, কারণ তোমার সব রিভিউ তখন কম বাজেটের বায়ারের। পার্থক্যটা পর্ব ৮-এ বিস্তারিত।
৬. প্রতিশ্রুতিটা লিখে ফেলা
সব যাচাইয়ের শেষে তোমার হাতে একটা বাক্য থাকা উচিত। এই ছাঁচে বসাও:
আমি কাদের কোন নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধান করি, কীভাবে, আর তার ফল কী।
উদাহরণ:
- আল-বিরুনি: “আমি B2B SaaS কোম্পানির জন্য ট্রায়াল-টু-পেইড ইমেইল সিকোয়েন্স লিখি, ওদের নিজের ইউজার ডেটা দেখে, যাতে ট্রায়াল ইউজাররা প্রথম সপ্তাহেই মূল ফিচারটা ব্যবহার করে।”
- ইবনে আল-হাইসাম: “আমি Shopify স্টোরের মোবাইল লোড টাইম ঠিক করি — থিম আর অ্যাপ স্ক্রিপ্ট অডিট করে — যাতে বিজ্ঞাপনের ট্রাফিক পেজ লোড হওয়ার আগেই চলে না যায়।”
- আল-রাজি: “আমি ইউটিউব শিক্ষামূলক চ্যানেলের ভিডিও এডিট করি রিটেনশন কার্ভ দেখে, যাতে প্রথম ত্রিশ সেকেন্ডে দর্শক ধরে রাখা যায়।”
লক্ষ করো, তিনটাতেই টুলের নাম গৌণ, আর তিনটাতেই একটা ফলাফল আছে যেটা বায়ারের ব্যবসার ভাষায় লেখা।
এই এক বাক্য পরের তিনটা পর্বের কাঁচামাল: এটা থেকেই তোমার Upwork প্রোফাইলের টাইটেল ও ওভারভিউ আসবে (পর্ব ৪), Fiverr গিগের টাইটেল ও ডেসক্রিপশন আসবে (পর্ব ৫), আর তোমার প্রপোজালের প্রথম দুই লাইন আসবে (পর্ব ৭)।
একটা পরীক্ষা
বাক্যটা এমন একজনকে পড়ে শোনাও যে তোমার কাজ বোঝে না। তারপর জিজ্ঞেস করো: “আমি কার জন্য কাজ করি, আর কী ঠিক করি?” সে যদি নিজের ভাষায় ঠিকঠাক ফিরিয়ে বলতে পারে, বাক্যটা কাজ করছে। না পারলে বাক্যটা এখনো তোমার জন্য লেখা, বায়ারের জন্য না।
এই সপ্তাহের কাজ
- তোমার শেষ দশটা কাজের তালিকা লিখে দলে ভাগ করো — সবচেয়ে বড় দলটাই তোমার সম্ভাব্য নিশের প্রথম প্রার্থী।
- তিনটা সম্ভাব্য নিশ নিয়ে ধাপ ১–৪ করো: Upwork-এ সাপ্তাহিক জব সংখ্যা, Fiverr-এর প্রথম পাতার আটটা গিগ, বায়ারের ভাষার তালিকা, আর ঘণ্টাপ্রতি নিট আয়ের হিসাব।
- বিশটা জব পোস্ট থেকে বায়ারের ব্যবহৃত শব্দগুলোর একটা তালিকা বানাও — এটা পরের চার পর্বে বারবার লাগবে।
- উপরের ছাঁচে তোমার এক-বাক্যের প্রতিশ্রুতিটা লিখে ফেলো, আর সেটা এমন কাউকে পড়ে শোনাও যে তোমার কাজ বোঝে না।
- এই সপ্তাহে কোনো গিগ পাবলিশ কোরো না — আগে বাক্যটা দাঁড় করাও।
টুল — প্রমাণের ভাণ্ডার আর পজিশনিং — দুটো ধাপই টুলে আছে, লেখাটা সেখানেই ভরে ফেলতে পারো।
পরের পর্ব — প্রোফাইল যেটা কনভার্ট করে: Upwork প্রোফাইল আর Fiverr সেলার প্রোফাইলে টাইটেল, ওভারভিউ, পোর্টফোলিও আর ছবি ঠিক কী কাজ করে, আর নতুনরা কোথায় বিশ্বাস হারায়।