ফ্রিল্যান্সিং: জিরো থেকে প্রো — পর্ব ২: Fiverr না Upwork
একটায় বায়ার তোমার কাছে আসে, অন্যটায় তুমি বায়ারের কাছে যাও — এই একটা পার্থক্য থেকেই ফি, নগদ প্রবাহ, কাজের ধরন আর তোমার প্রথম তিন মাসের কৌশল সব আলাদা হয়ে যায়।
একটায় বায়ার তোমার কাছে আসে, অন্যটায় তুমি বায়ারের কাছে যাও — এই একটা পার্থক্য থেকেই ফি, নগদ প্রবাহ, কাজের ধরন আর তোমার প্রথম তিন মাসের কৌশল সব আলাদা হয়ে যায়।
একই সপ্তাহ, দুইজন মানুষ
আল-বিরুনি আর ফাতিমা আল-ফিহরি — দুজনেই গ্রাফিক ডিজাইনার, দুজনেরই দুই বছরের অভিজ্ঞতা, দুজনেই এপ্রিলের এক সপ্তাহে শুরু করেছে।
আল-বিরুনি Fiverr বেছেছে। সে তিন দিন ধরে একটা গিগ বানিয়েছে — টাইটেল, তিনটা প্যাকেজ, পাঁচটা গ্যালারি ইমেজ, একটা ভিডিও। পাবলিশ করে সে অপেক্ষা করছে। প্রথম সপ্তাহে ইম্প্রেশন ৩১। দ্বিতীয় সপ্তাহে ৬০। কোনো মেসেজ নেই। সে দিনে দশ মিনিট অ্যাপটা খোলে আর বন্ধ করে।
ফাতিমা Upwork বেছেছে। তার প্রোফাইল বানাতে লেগেছে এক দিন। তারপর থেকে সে প্রতিদিন সন্ধ্যায় দেড় ঘণ্টা বসে, চার-পাঁচটা জব পোস্ট পড়ে, আর দুটোতে প্রপোজাল পাঠায়। প্রথম সপ্তাহে ১১টা প্রপোজাল, শূন্য রিপ্লাই। দ্বিতীয় সপ্তাহে ১৩টা, দুটো রিপ্লাই, একটা ইন্টারভিউ। তৃতীয় সপ্তাহে একটা ৭৫ ডলারের কন্ট্রাক্ট।
এখানে ফাতিমা আল-বিরুনির চেয়ে ভালো ডিজাইনার — এমন কিছু ঘটেনি। যেটা ঘটেছে সেটা কাঠামোগত: আল-বিরুনি একটা দোকান খুলে বসে আছে যেখানে এখনো কোনো রাস্তা পৌঁছায়নি, আর ফাতিমা দরজায় দরজায় গিয়ে নক করছে।
দুটোই বৈধ ব্যবসা। কিন্তু দুটোর সময়রেখা, খাটুনির ধরন আর ঝুঁকি সম্পূর্ণ আলাদা — আর সেটা না বুঝে শুরু করলে তুমি ভুল জিনিসের জন্য অপেক্ষা করতে থাকো।
১. গঠনগত পার্থক্যটাই মূল কথা
Fiverr একটা প্রোডাক্ট ক্যাটালগ। তুমি একটা প্যাকেজ বানাও — নির্দিষ্ট স্কোপ, নির্দিষ্ট দাম, নির্দিষ্ট ডেলিভারি টাইম — আর সেটা তাকে সাজিয়ে রাখো। বায়ার সার্চ করে, তুলনা করে, কার্টে ফেলে, কিনে ফেলে। অনেক অর্ডারে তোমার সাথে কথাই হয় না অর্ডার হওয়ার আগে।
Upwork একটা টেন্ডার বোর্ড। ক্লায়েন্ট তার সমস্যা লিখে পোস্ট করে, আর তুমি প্রপোজাল পাঠাও। সে কয়েকটা প্রপোজাল পড়ে, দু-একজনের সাথে কথা বলে, তারপর কন্ট্রাক্ট শুরু করে। এখানে প্রায় সবসময়ই কথোপকথন আগে, কাজ পরে।
এই একটা পার্থক্য থেকে বাকি সব বেরোয়:
| Fiverr | Upwork | |
|---|---|---|
| কে কার কাছে যায় | ক্লায়েন্ট তোমার কাছে | তুমি ক্লায়েন্টের কাছে |
| তুমি কী বিক্রি করো | একটা প্যাকেজ | তোমার সময় ও দক্ষতা |
| শুরুর খাটুনি | গিগ বানানো, একবার | প্রতিদিন প্রপোজাল, ধারাবাহিক |
| খাটুনি বন্ধ করলে | সার্চে থাকো, কিন্তু ধীরে নামতে থাকো | প্রায় সাথে সাথে শূন্য |
| প্রথম অর্ডারের সময় | অনিশ্চিত, প্রায়ই কয়েক মাস | তুলনামূলক দ্রুত, খাটুনির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত |
| স্বাভাবিক কাজ | ছোট, পুনরাবৃত্ত, সংজ্ঞায়িত | বড়, দীর্ঘমেয়াদি, অস্পষ্ট |
| স্কেল করার পথ | দাম বাড়ানো, প্যাকেজ, আরও গিগ | ঘণ্টার রেট বাড়ানো, রিটেইনার |
| প্রতিযোগিতা যেখানে | সার্চ র্যাংকিং | প্রপোজালের সারি |
একটা সরল রূপক: Fiverr হলো দোকান, Upwork হলো টেন্ডার। দোকানের সমস্যা রাস্তায় লোক আনা; টেন্ডারের সমস্যা প্রতিবার নতুন করে জেতা।
শুরুর সিদ্ধান্তের জন্য সবচেয়ে কাজের প্রশ্নটা “কোনটা ভালো” না, বরং “আমার এখন কী দরকার — সময় নাকি নিশ্চয়তা?” টাকা এখনই দরকার হলে Upwork, কারণ সেখানে খাটুনি আর ফলাফলের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক আছে। পাশে চাকরি আছে আর ধীরে একটা সম্পদ বানাতে চাও, তাহলে Fiverr — একটা চালু গিগ ঘুমের মধ্যেও অর্ডার আনে, কিন্তু সেই জায়গায় পৌঁছাতে মাস লাগে।
একটা ভাষার ব্যাপারও জেনে রাখো: Fiverr এখন নিজেদের লেখায় “seller”-এর বদলে freelancer আর “buyer”-এর বদলে client বলে। পুরোনো টিউটোরিয়ালে “সেলার লেভেল” শুনলে বুঝে নিও একই জিনিসের কথা হচ্ছে।
২. টাকার হিসাব: কমিশন কে কাটে, কত
এই জায়গায় সংখ্যাগুলো বদলায়, তাই মেকানিজমটা মুখস্থ করো আর সংখ্যাটা প্রতিবার প্ল্যাটফর্মে দেখে নাও। নিচেরগুলো ২০২৬ সালের মাঝামাঝি প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব পেজে যা লেখা ছিল, তাই।
Fiverr-এর মডেল সরল ও স্থির। প্ল্যাটফর্ম প্রতিটা সম্পন্ন অর্ডারের ২০% নেয় — মানে তুমি পাও ঘোষিত দামের ৮০%। ১০০ ডলারের একটা গিগে তোমার অ্যাকাউন্টে জমা হয় ৮০ ডলার। এটা সব লেভেলে এক, আর তোমার নিয়ন্ত্রণে নেই।
ক্লায়েন্টের দিকেও আলাদা ফি আছে — একটা শতকরা সার্ভিস ফি, আর ছোট অর্ডারে একটা বাড়তি ফ্ল্যাট ফি। মানে বায়ার ১০০ ডলারের গিগে আসলে তার চেয়ে বেশি দেয়। এটা তোমার আয় কমায় না, কিন্তু এটাই কারণ কেন খুব ছোট অর্ডার বায়ারের কাছে অনুপাতে দামি মনে হয় — আর কেন ১০ ডলারের গিগ বানানো প্রায়ই অর্থহীন।
Upwork-এর মডেল বদলে গেছে, আর এটা অনেকে জানে না। পুরোনো ২০%/১০%/৫% স্ল্যাব — যেটা এক ক্লায়েন্টের সাথে যত বেশি আয় তত কম ফি — সেটা আর নেই। ফ্ল্যাট ১০%-ও আর নেই। এখন ফি প্রতি কন্ট্রাক্টে আলাদা, ০% থেকে ১৫%-এর মধ্যে, আর সংখ্যাটা তোমাকে বিড করার আগেই দেখিয়ে দেওয়া হয় এবং সেই কন্ট্রাক্টের পুরো জীবনের জন্য আটকে যায়।
Upwork-এ প্রপোজাল পাঠানোর আগে ওই জবের সার্ভিস ফি-টা দেখে নাও — দুটো একই বাজেটের কন্ট্রাক্টে তোমার নিট আয় আলাদা হতে পারে। ২০২৪ সালের কোনো ব্লগ বা ইউটিউব ভিডিও যদি “প্রথম ৫০০ ডলারে ২০%” বলে, সেটা এখন ভুল। এই কারণেই এই সিরিজে সংখ্যার চেয়ে মেকানিজমে জোর — সংখ্যা বছরে বদলায়, কাঠামো বদলায় না।
Upwork-এ আরেকটা খরচ আছে যেটা Fiverr-এ নেই: Connects। প্রতিটা প্রপোজালে কিছু Connects খরচ হয়, আর প্রতিটা Connect-এর দাম মোটামুটি ১৫ সেন্ট। কত Connects লাগবে সেটা জব ভেদে আলাদা — বড় ও চাহিদাসম্পন্ন জবে বেশি। ফ্রি প্ল্যানে মাসে অল্প কিছু Connects পাওয়া যায় (আর সেটা সবসময় নিশ্চিত না, অফারের উপর নির্ভর করে), বাকিটা কিনতে হয়।
এর মানে একটা কথা যেটা প্রথম দিন থেকে মাথায় রাখা দরকার: Upwork-এ প্রতিটা প্রপোজালের একটা দাম আছে। ৪০টা প্রপোজাল পাঠিয়ে একটা কন্ট্রাক্ট পেলে ওই কন্ট্রাক্টের প্রকৃত খরচ ৪০টা প্রপোজালের Connects। তাই সেখানে জেতার পথ বেশি বিড করা না, ভালো জব বাছাই করা — পর্ব ৭ পুরোটাই এই নিয়ে।
৩. টাকাটা হাতে আসতে কত দিন
এটা নতুনরা প্রায় কেউ হিসাব করে না, অথচ প্রথম কয়েক মাসে এটাই সবচেয়ে বেশি টের পাওয়া যায়।
দুই প্ল্যাটফর্মেই টাকা সাথে সাথে তোলা যায় না — একটা ক্লিয়ারিং সময় আছে। কারণটা প্ল্যাটফর্মের দিক থেকে যুক্তিসঙ্গত: বিরোধ, রিফান্ড বা চার্জব্যাক হলে টাকাটা যেন ফেরানো যায়।
মোটা দাগে ২০২৬-এ যা দাঁড়ায়:
| Fiverr | Upwork | |
|---|---|---|
| কখন টাকা “ক্লিয়ার” হয় | অর্ডার সম্পূর্ণ হওয়ার প্রায় ১৪ দিন পরে; Top Rated-দের জন্য কম | ফিক্সড প্রাইসে মাইলস্টোন অনুমোদনের প্রায় ৫ দিন পরে; আওয়ারলিতে সপ্তাহ শেষের প্রায় ১০ দিন পরে |
| দ্রুত পাওয়ার পথ | উঁচু লেভেল ও কিছু প্রোগ্রামে ছোট ফি-র বিনিময়ে আগাম পেআউট | Top Rated ও Top Rated Plus-এ আওয়ারলি পেআউট দ্রুততর |
| ঝুঁকির ধরন | অর্ডার ক্যানসেল হলে টাকা ফেরত যায় | ফিক্সড প্রাইসে এসক্রো, আওয়ারলিতে টাইম ট্র্যাকারের সুরক্ষা |
দুটো ব্যবহারিক ফল আছে।
এক — প্রথম মাসের আয় দ্বিতীয় মাসে হাতে আসে। এপ্রিলের কাজের টাকা মে মাসের বাজেট। অনেকে এটা ধরতে না পেরে হতাশ হয়ে যায় বা জরুরি খরচে আটকে যায়। শুরুর সময় হাতে অন্তত দুই-তিন মাসের খরচ থাকা দরকার — এটা ঐচ্ছিক না।
দুই — Upwork-এর আওয়ারলি কন্ট্রাক্টে সুরক্ষাটা আসলে ভালো। ট্র্যাকার দিয়ে সময় লগ করলে ক্লায়েন্ট টাকা না দিলেও প্ল্যাটফর্মের সুরক্ষা কাজ করে। Fiverr-এ সুরক্ষাটা আসে অর্ডার সিস্টেম থেকে — টাকা আগেই জমা হয়ে থাকে, তুমি ডেলিভার করলে ছাড়া পায়। দুই ক্ষেত্রেই সুরক্ষা কেবল প্ল্যাটফর্মের ভেতরে কাজ করে — বাইরে গিয়ে কাজ করলে কিছুই থাকে না, যেটা পর্ব ১৪-এর বিষয়।
৪. কোন কাজের জন্য কোনটা
কাজের ধরন দিয়ে ভাগটা মোটামুটি পরিষ্কার, আর এটা রুচির ব্যাপার না — এটা প্যাকেজে ঢোকে কি না তার ব্যাপার।
Fiverr ভালো কাজ করে যখন কাজটা প্যাকেজে ঢোকে:
- লোগো, ব্যানার, থাম্বনেইল, সোশ্যাল মিডিয়া ক্রিয়েটিভ
- ভিডিও এডিটিং, সাবটাইটেল, ভয়েসওভার
- আর্টিকেল, প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন, ট্রান্সলেশন
- ল্যান্ডিং পেজ, WordPress সাইট, Shopify থিম কাস্টমাইজেশন
- ছোট, সংজ্ঞায়িত টেকনিক্যাল কাজ — বাগ ফিক্স, স্পিড অডিট, ইন্টিগ্রেশন সেটআপ
সাধারণ সূত্র: তুমি যদি কাজটা আগে থেকে তিনটা স্তরে ভাগ করে দাম বসাতে পারো, সেটা Fiverr-এর জিনিস।
Upwork ভালো কাজ করে যখন কাজটা আগে আলোচনা লাগে:
- চলমান ডেভেলপমেন্ট, একটা প্রোডাক্টের অংশ হয়ে কাজ করা
- কনসাল্টিং, অডিট, স্ট্র্যাটেজি
- দীর্ঘমেয়াদি কনটেন্ট বা মার্কেটিং কাজ
- এমন কিছু যার স্কোপ প্রথম কথোপকথনের আগে জানা যায় না
- মাসিক রিটেইনার আর দলে ঢুকে কাজ করা
সাধারণ সূত্র: কাজটা যদি “নির্ভর করে” দিয়ে শুরু হয়, সেটা Upwork-এর জিনিস।
এখান থেকে একটা কম আলোচিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কথা বেরোয়: একই দক্ষতা দুই জায়গায় দুই রকম প্যাকেজিং চায়। একজন ব্যাকএন্ড ডেভেলপার Fiverr-এ “REST API integration for your existing app” বেচতে পারে, আর Upwork-এ একই মানুষ “দুই মাসের জন্য তোমার টিমে ব্যাকএন্ড” বেচে। জিনিসটা এক, বিক্রির গঠন আলাদা।
৫. বাংলাদেশ থেকে হিসাবটা কোথায় বদলায়
তিনটা জিনিস তোমার সিদ্ধান্তে সরাসরি ঢোকে।
টাইমজোন Upwork-এ বেশি ওজন রাখে। Fiverr-এ গিগ চব্বিশ ঘণ্টা তাকে বসে থাকে, তাই তুমি ঘুমালেও অর্ডার আসতে পারে — শুধু মেসেজের উত্তর দ্রুত দেওয়া দরকার। Upwork-এ উল্টো: একটা জব পোস্টের প্রথম কয়েক ঘণ্টাই আসল, কারণ ক্লায়েন্ট তখনই বসে প্রপোজাল পড়ে। বাংলাদেশ UTC+6 হওয়ায় ইউরোপের সকাল তোমার দুপুর — চমৎকার। US East-এর সকাল তোমার সন্ধ্যা-রাত — মানে US ক্লায়েন্ট ধরতে চাইলে তোমাকে সন্ধ্যার একটা নির্দিষ্ট স্লট বেছে নিতে হবে।
সস্তা প্রতিযোগিতা দুই জায়গায় দুই রকম কামড়ায়। Fiverr-এ সেটা সার্চ পাতায় সরাসরি দামের পাশাপাশি তুলনায় দেখা যায়, তাই চাপটা বেশি টের পাওয়া যায়। Upwork-এ ক্লায়েন্ট তোমার লেখা প্রপোজাল পড়ে, তাই সেখানে দামের বাইরে আলাদা হওয়ার জায়গা বেশি — একটা ভালো প্রপোজাল সস্তা বিডকে হারাতে পারে, একটা গিগ কার্ড সাধারণত পারে না। নতুনদের জন্য এটা Upwork-এর পক্ষে আরেকটা যুক্তি।
টাকা তোলার পথ দুই জায়গায় এক না, আর এটা অনেকে খেয়াল করে না। Upwork থেকে বাংলাদেশে সরাসরি স্থানীয় ব্যাংকে টাকা পাঠানো যায় — বাংলাদেশ ওদের সমর্থিত দেশের তালিকায় নাম ধরে আছে — পাশাপাশি Payoneer-ও আছে। Fiverr-এর নিজস্ব কোনো সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফার নেই; ওদের “Bank Transfer” অপশনটাও আসলে Payoneer-এর ভেতর দিয়ে যায়। আর PayPal দুই জায়গাতেই তালিকায় থাকলেও সেটা কেবল সেসব দেশে কাজ করে যেখানে PayPal টাকা গ্রহণ করতে দেয় — তাই বাংলাদেশ থেকে বাস্তবে Payoneer-ই মূল পথ, আর Upwork-এ বাড়তি একটা সরাসরি ব্যাংক অপশন।
এতে প্ল্যাটফর্ম বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত উল্টে যায় না, কিন্তু হিসাবটা বদলায়: প্রতিটা ধাপে ফি আর এক্সচেঞ্জ রেটের মার্জিন কাটে, তাই ঘোষিত আয়ের চেয়ে হাতে কম আসে। কোন চ্যানেলে কত — সেটা বদলায়, আর প্ল্যাটফর্মের নিজের দুটো পেজেও মাঝে মাঝে দুই রকম লেখা থাকে। তাই টাকা তোলার আগে নিজের অ্যাকাউন্টের সেটিংসে গিয়ে বর্তমান ফি দেখে নাও — বিস্তারিত পর্ব ১৩-এ।
৬. দুটো একসাথে চালানো
সবচেয়ে সাধারণ প্রশ্ন, আর উত্তরটা সময়ের উপর নির্ভর করে।
প্রথম তিন মাস — একটা। দুটোতে একসাথে নামা প্রায় সবসময়ই ভুল, কারণ দুটোরই শেখার বক্ররেখা আলাদা, আর দুটোতে ভাগ করে দিলে কোনোটাতেই যথেষ্ট ডেটা জমে না। তুমি তখন দুটো ব্যর্থ পরীক্ষা চালাচ্ছ, একটা সফল পরীক্ষা না।
তবু একটা কার্যকর সংমিশ্রণ আছে, যেটা অনেকে ব্যবহার করে: Upwork সক্রিয়, Fiverr নিষ্ক্রিয়। মানে তোমার প্রতিদিনের খাটুনি যায় Upwork-এর প্রপোজালে, আর পাশাপাশি একটা ভালো করে বানানো Fiverr গিগ চুপচাপ বসে থাকে। গিগটা ধীরে ধীরে সিগন্যাল জমাতে থাকে, আর মাসের পর মাস ওখান থেকে দু-একটা অর্ডার আসতে শুরু করে — যেটার জন্য তোমাকে বাড়তি কিছু করতে হয় না। এতে খাটুনি ভাগ হয় না, কারণ Fiverr-এর অংশটা এককালীন।
ছয় মাস পরে — দুটোই, তবে আলাদা ভূমিকায়। Upwork থাকে বড় ও দীর্ঘমেয়াদি কাজের জন্য, Fiverr থাকে ছোট ও পুনরাবৃত্ত কাজের জন্য। এই পর্যায়ে দুটো প্ল্যাটফর্ম একে অন্যের প্রতিযোগী না, বরং তোমার ঝুঁকি ছড়ানোর উপায় — একটা অ্যাকাউন্টে সমস্যা হলে পুরো আয় বন্ধ হয় না।
একটা জিনিস কখনো কোরো না: এক প্ল্যাটফর্মের ক্লায়েন্টকে অন্য প্ল্যাটফর্মে বা প্ল্যাটফর্মের বাইরে নিয়ে যাওয়া। দুটোতেই এটা ToS ভাঙে, আর Upwork তো স্পষ্ট করে লিখেই রেখেছে যে বাইরে পেমেন্ট নিলে বা কন্ট্রাক্টের আগে বারবার বাইরে যোগাযোগ করলে ব্যাজ চলে যায় এবং একটা লম্বা সময় সেটা আর ফেরত পাওয়া যায় না। যে সম্পদটা বানাতে এক বছর লাগে, সেটা একটা মেসেজে হারানোর মানে হয় না।
৭. তাহলে সিদ্ধান্তটা কীভাবে নেবে
তিনটা প্রশ্নে নেমে আসে:
- কত দ্রুত টাকা দরকার? দ্রুত হলে Upwork। অপেক্ষা করতে পারলে Fiverr-ও চলে।
- তোমার কাজ কি প্যাকেজে ঢোকে? ঢুকলে Fiverr শক্তিশালী। “নির্ভর করে” হলে Upwork।
- তুমি লিখতে পারো, নাকি দেখাতে পারো? ইংরেজিতে গুছিয়ে লিখতে পারলে Upwork-এ তোমার সুবিধা বড়। ভিজ্যুয়াল কাজ যেখানে নমুনাই কথা বলে, সেখানে Fiverr।
আর একটা কথা মনে রাখা ভালো: এই সিদ্ধান্তটা উল্টানো যায়। তিন মাস একটাতে সৎভাবে চেষ্টা করে ডেটা দেখে সরে যাওয়া একদম স্বাভাবিক। যেটা কাজ করে না, সেটা হলো প্রতি দুই সপ্তাহে প্ল্যাটফর্ম বদলানো — তাতে দুই জায়গাতেই তুমি চিরকাল নতুন।
এই সপ্তাহের কাজ
- উপরের তিনটা প্রশ্নের উত্তর লিখে ফেলো, আর পরের তিন মাসের জন্য একটা প্ল্যাটফর্ম বাছো।
- দুটো প্ল্যাটফর্মেই তোমার ক্যাটাগরির বর্তমান ফি, Connects-এর দাম আর ক্লিয়ারিং সময় নিজে দেখে নাও — এই সংখ্যাগুলো বদলায়, আর ব্লগের সংখ্যা প্রায়ই পুরোনো।
- তোমার নিশের কাজটা “প্যাকেজে ঢোকে” কি না সেটা পরীক্ষা করো: তিনটা স্তরে ভাগ করে দাম বসাতে পারো কি না, কাগজে লিখে দেখো।
- একটা সরল নগদ প্রবাহের হিসাব করো — প্রথম অর্ডার থেকে ব্যাংকে টাকা পৌঁছাতে কত দিন, আর ততদিন চলার মতো টাকা হাতে আছে কি না।
- অ্যাকাউন্ট খোলার সময় নিজের আসল নাম, আসল ছবি আর আসল তথ্য দাও — পরে পরিচয় যাচাইয়ে অমিল হলে অ্যাকাউন্ট আটকে যায়।
পরের পর্ব — নিশ ও পজিশনিং: “সব পারি” কেন মার্কেটপ্লেসে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান, চাহিদা যাচাই করার চার ধাপের পদ্ধতি, আর একটা এক-বাক্যের প্রতিশ্রুতি যেটা পরের চার পর্বের কাঁচামাল।