Skip to content

রিমোট জব প্রিপারেশন — পর্ব ১৪: কন্ট্রাক্ট — contractor, EOR, নাকি এজেন্সি

তোমাকে কে নিয়োগ দিচ্ছে সেটা বেতনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। তিনটা কাঠামোর তুলনা, IP ও invention ক্লজ, নন-কম্পিট, নোটিশ, পেমেন্টের শর্ত, আর সই করার আগে যে লাইনগুলো অবশ্যই পড়তে হয়।

তোমাকে কে নিয়োগ দিচ্ছে সেটা বেতনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। তিনটা কাঠামোর তুলনা, IP ও invention ক্লজ, নন-কম্পিট, নোটিশ, পেমেন্টের শর্ত, আর সই করার আগে যে লাইনগুলো অবশ্যই পড়তে হয়।


একই বেতন, তিন রকম জীবন

তিনজন ইঞ্জিনিয়ার, তিনটা কোম্পানি, প্রায় একই মাসিক অঙ্ক।

আল-বিরুনি সরাসরি কন্ট্রাক্টর। মাসে ইনভয়েস পাঠায়, পুরো টাকাটা পায়, নোটিশ দুই সপ্তাহ। বছরের মাঝে দুই সপ্তাহ অসুস্থ ছিল — ওই দুই সপ্তাহের টাকা পায়নি। ট্যাক্স আর হিসাব তার নিজের।

মারিয়াম একটা EOR-এর মাধ্যমে নিযুক্ত। কাগজে-কলমে সে EOR কোম্পানির কর্মচারী, কাজ করে ক্লায়েন্ট কোম্পানিতে। ছুটি আছে, অসুস্থতার দিন আছে, নোটিশ লম্বা। বিনিময়ে ক্লায়েন্ট কোম্পানি প্রতি মাসে EOR-কে একটা ফি দেয়, আর সেই খরচ তার প্যাকেজের হিসাবেই ধরা।

আল-কিন্দি একটা এজেন্সির মাধ্যমে। এজেন্সি ক্লায়েন্টের কাছ থেকে নেয়, তার একটা অংশ তাকে দেয়। কাজ পাওয়া সহজ ছিল, কিন্তু ক্লায়েন্টের সাথে সরাসরি সম্পর্কে সীমা আছে, আর প্রকল্প শেষ হলে এজেন্সিকেই পরের কাজ খুঁজতে হবে।

তিনজনের মাসিক সংখ্যা প্রায় এক, কিন্তু ঝুঁকি, সুরক্ষা আর স্বাধীনতা সম্পূর্ণ আলাদা। অফার নেওয়ার আগে কোন কাঠামোয় ঢুকছ, সেটা জানা বেতনের সংখ্যার মতোই জরুরি।


১. তিনটা কাঠামো, পাশাপাশি

দিকসরাসরি contractorEORএজেন্সি / স্টাফিং
কে পে করেক্লায়েন্ট কোম্পানি নিজেEOR প্রদানকারীএজেন্সি
তোমার মর্যাদাস্বাধীন ঠিকাদারEOR-এর কর্মচারীএজেন্সির কর্মী বা ঠিকাদার
বেনিফিট, ছুটিনেই (নিজে রাখতে হয়)সাধারণত থাকেনির্ভর করে
ট্যাক্সপুরোটা তোমার দায়িত্বকিছুটা সামলানো হয়, দেশভেদে আলাদামিশ্র
নোটিশ ও সুরক্ষাসবচেয়ে কমসবচেয়ে বেশিমাঝারি
নমনীয়তাসবচেয়ে বেশিকমকম
কোম্পানির খরচসবচেয়ে কমবেশি (মাসিক ফি)সবচেয়ে বেশি (কমিশন)
প্রথম চাকরির জন্যভালোসবচেয়ে ভালোসবচেয়ে দ্রুত

কখন কোনটা বেছে নেবে:

  • প্রথম আন্তর্জাতিক চাকরি হলে EOR সবচেয়ে নিরাপদ — সুরক্ষা বেশি, আর কোম্পানির দিক থেকেও প্রক্রিয়াটা পরিষ্কার।
  • কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা আর একাধিক ক্লায়েন্ট চাইলে contractor — আয় বেশি হতে পারে, কিন্তু ঝুঁকি ও কাগজপত্র তোমার।
  • দ্রুত ঢুকতে চাইলে এজেন্সি — বিশেষত উপসাগরীয় দেশ ও UK-তে, যেখানে এজেন্সির ভূমিকা বড় (পর্ব ৫)।

কোম্পানি “আমরা তোমার দেশে নিতে পারি না” বললে অনেক সময় সেটার মানে “আমাদের এখানে এন্টিটি নেই” — আর EOR ঠিক এই সমস্যাটাই সমাধান করে। বাংলাদেশের জন্য একাধিক আন্তর্জাতিক EOR প্রদানকারী কাজ করে (২০২৬-এর মাঝামাঝি অবস্থা)। তাই “কোনো পথ নেই” শোনার আগে জিজ্ঞেস করে দেখো:

Would using an EOR work for your team? Several of them support Bangladesh, and it means you don’t need a local entity — the cost is a monthly per-employee fee on top of my package.

এই এক বাক্যেই অনেক “না” “হ্যাঁ” হয়ে যায়, কারণ তুমি ওদের সমস্যাটার সমাধান নিয়ে এসেছ।


২. মিসক্লাসিফিকেশন — যে ঝুঁকিটা কেউ বলে না

কাগজে “স্বাধীন ঠিকাদার” কিন্তু বাস্তবে পূর্ণকালীন কর্মচারীর মতো কাজ — নির্দিষ্ট সময়, একটাই ক্লায়েন্ট, তাদের যন্ত্রপাতি, তাদের ব্যবস্থাপনা — অনেক দেশে এটাকে misclassification বলে, আর এর দায় মূলত কোম্পানির উপর পড়ে।

তোমার দিক থেকে এটা জানা দরকার দুটো কারণে: কোম্পানির হঠাৎ নীতি বদলালে তোমার চুক্তি বদলাতে পারে, আর তোমার নিজের দেশে আয়ের শ্রেণিবিভাগে এর প্রভাব থাকতে পারে। ছোট কোম্পানিতে এটা প্রায়ই অগোছালো থাকে; বড় কোম্পানিতে ওরা নিজেরাই EOR-এর দিকে যায়।

এটা তোমার সমাধান করার সমস্যা না, কিন্তু অফারের সময় জিজ্ঞেস করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ: “How do you handle contractor compliance for people outside your entity countries?” — উত্তরটা কোম্পানির পরিপক্বতাও মেপে দেয়।


৩. IP আর invention ক্লজ

সবচেয়ে কম পড়া, অথচ দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে প্রভাবশালী অংশ। সাধারণ ভাষায়: কাজের সময় তুমি যা বানাও তার মালিকানা কোম্পানির — এটা স্বাভাবিক ও ন্যায্য।

সমস্যা শুরু হয় যখন ক্লজটা এর চেয়ে চওড়া হয়। যেসব শব্দ দেখে থামবে:

  • “any intellectual property created during the term of this agreement” — সময়ের কথা বলছে, কাজের কথা না। মানে রাত ১১টায় তোমার সাইড প্রোজেক্টও এর ভেতরে পড়ে।
  • related to the business of the company” — কোম্পানি যদি “software” ব্যবসায় থাকে, তাহলে এর সীমা কার্যত সীমাহীন।
  • ওপেন সোর্স কন্ট্রিবিউশনের ব্যাপারে কোনো ব্যতিক্রম না থাকা।

যা চাইতে পারো, আর যা চাওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক:

Could we scope the IP clause to work done for the company, and add a carve-out for open-source contributions and personal projects that don’t compete with the company’s products? I’m happy with anything I build for you being yours.

কোম্পানি প্রায়ই রাজি হয়, কারণ ওদের আসল উদ্দেশ্য তোমার ব্যক্তিগত প্রোজেক্ট দখল করা না। রাজি না হলে অন্তত জেনে রাখলে — সাইড প্রোজেক্ট বা পাবলিক লেখার (পর্ব ৪) পরিকল্পনা সেই অনুযায়ী করতে পারবে।


৪. নন-কম্পিট, নন-সলিসিট আর গোপনীয়তা

গোপনীয়তা (NDA) — স্বাভাবিক, সই করো। শুধু দেখো এটা যেন তোমার সাধারণ পেশাগত জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলাকে নিষিদ্ধ না করে (তোমার নিজের গল্প বলার অধিকার লাগবে — পর্ব ১২)।

নন-সলিসিট — সাধারণত যুক্তিসঙ্গত: এক-দুই বছর তাদের কর্মী বা ক্লায়েন্টকে টেনে না নেওয়া।

নন-কম্পিট — এখানেই সাবধান। কিছু কন্ট্রাক্টে “প্রতিযোগী কোনো কোম্পানিতে কাজ করা যাবে না” ক্লজ থাকে বিশ্বব্যাপী, বছরখানেকের জন্য। এই ধরনের ব্যাপক ক্লজের প্রয়োগযোগ্যতা দেশভেদে খুব আলাদা — কিছু জায়গায় প্রায় অপ্রয়োগযোগ্য, কিছু জায়গায় কড়া। বাংলাদেশে বসে বিদেশি কন্ট্রাক্টে সই করলে প্রশ্নটা আরও জটিল: কোন দেশের আইন প্রযোজ্য, আর বিরোধ হলে কোথায় নিষ্পত্তি হবে।

তাই দুটো লাইন খুঁজে পড়ো — governing law আর dispute resolution। এই দুটো ঠিক করে দেয় কাগজের বাকিটার বাস্তব ওজন কতটা।

নন-কম্পিটের সবচেয়ে বাস্তব ঝুঁকি আদালত না — ভবিষ্যতের একটা ভালো অফার হাতছাড়া হওয়া, কারণ নতুন কোম্পানির আইনজীবী ঝুঁকি নিতে চাইবে না। তাই ক্লজটার সীমা সংকুচিত করতে চাওয়া (সময়, ভূগোল, বা “সরাসরি প্রতিযোগী” সংজ্ঞা) সই করার আগেই — এটা পরে ঠিক করা যায় না।


৫. নোটিশ, টার্মিনেশন আর “at-will”

তিনটা জিনিস স্পষ্ট থাকা দরকার:

  • নোটিশ, দুই দিকেই। কন্ট্রাক্টর চুক্তিতে প্রায়ই ৭–৩০ দিন। সেটা কম মনে হলে বাড়ানোর অনুরোধ করা যায় — বিশেষত তুমি যদি বর্তমান চাকরি ছেড়ে আসছ।
  • “at-will” শব্দটা মানে যেকোনো সময়, কারণ ছাড়াই সম্পর্ক শেষ করা যায় (US প্রেক্ষাপটে সাধারণ)। এটা দেখলে ধরে নাও সুরক্ষা কম।
  • প্রবেশন / প্রাথমিক সময়কাল — প্রথম ৩–৬ মাসে নোটিশ ছোট হতে পারে; জেনে রাখো।

আর একটা ব্যবহারিক পরামর্শ: নোটিশের সময়টা আর্থিকভাবে প্রস্তুত রাখো। কন্ট্রাক্টর হিসেবে তিন-ছয় মাসের খরচের একটা তহবিল থাকা বিলাসিতা না, ওটাই তোমার “চাকরির নিরাপত্তা” (পর্ব ১৫)।


৬. ছুটি, অসুস্থতা, ওভারটাইম, অন-কল

কর্মচারী হলে এগুলো আইনে বা কোম্পানির নীতিতে থাকে। কন্ট্রাক্টর হলে যা লেখা নেই, তা নেই — তাই লিখিয়ে নাও:

  • বছরে কত দিন ছুটি, আর সেটা পেইড কি না (কন্ট্রাক্টর রেটে সাধারণত ধরা থাকে না — রেট হিসাব করার সময় এটাই পর্ব ১৩-এর হিসাবে ঢোকে)
  • অসুস্থতার নীতি
  • অন-কল থাকলে: কত ঘন ঘন, কোন সময়ে, আর আলাদা পারিশ্রমিক আছে কি না
  • ওভারল্যাপের ঘণ্টা — মৌখিক আলোচনাটা চুক্তিতে নামানো
  • ছুটির দিন কোন দেশের ক্যালেন্ডারে — ঈদের ছুটি ধরা আছে কি না, এটা আগেই বলে নেওয়া ভালো, পরে না

শেষ বিন্দুটা ছোট মনে হলেও প্রতি বছর ফিরে আসে। শুরুতেই বলে রাখলে কোনো সমস্যা হয় না; দুই দিন আগে বললে সমস্যা হয়।


৭. পেমেন্টের শর্ত

কন্ট্রাক্টে টাকার প্রবাহটা স্পষ্ট থাকতে হবে, নইলে সমস্যা তিন মাস পরে দেখা দেয়:

  • মুদ্রা — USD, EUR, না অন্য কিছু; আর বিনিময় হারের ঝুঁকি কার।
  • সময়সূচি — মাসিক নাকি দুই সপ্তাহে, আর ইনভয়েসের পরে কত দিনে পেমেন্ট (net 15 / net 30)।
  • দেরির ক্ষেত্রে কী — একটা সাধারণ ধারা যথেষ্ট, কিন্তু থাকা ভালো।
  • কে ফি বহন করে — ব্যাংক ট্রান্সফার বা পেমেন্ট রেলের ফি প্রায়ই কেউ ভাবে না; লিখে নাও যে অঙ্কটা তোমার অ্যাকাউন্টে পৌঁছাবে, নাকি পাঠানোর আগে।
  • প্রথম পেমেন্টের তারিখ — নতুন কন্ট্রাক্টে প্রথমবারটাই সবচেয়ে বেশি দেরি হয়।

বিস্তারিত পথ ও খরচ পর্ব ১৫-এ।


৮. সই করার আগে যে আটটা লাইন পড়বেই

কন্ট্রাক্ট লম্বা, সময় কম। অন্তত এই আটটা খুঁজে পড়ো:

  • অঙ্ক, মুদ্রা, আর পেমেন্টের সময়সূচি
  • নিয়োগের কাঠামো ও কোন এন্টিটির সাথে চুক্তি
  • IP / invention ক্লজের পরিধি
  • নন-কম্পিট ও নন-সলিসিটের সময় ও ভূগোল
  • নোটিশ ও টার্মিনেশন, দুই দিকেই
  • ছুটি ও কাজের সময়ের প্রত্যাশা
  • governing law আর dispute resolution
  • যা আলোচনায় প্রতিশ্রুত হয়েছিল (রিভিউ, বাজেট, যন্ত্রপাতি) — সেটা কি সত্যিই কাগজে আছে?

কখন আইনজীবী দেখাবে: প্রথম আন্তর্জাতিক চুক্তিতে একবার — তারপর তুমি নিজেই প্যাটার্নগুলো চিনবে। খরচটা এক দিনের আয়ের কম, আর এটা এমন একটা কাগজ যেটা এক-দুই বছর তোমার জীবন নিয়ন্ত্রণ করবে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক চুক্তি দেখেন এমন আইনজীবী আছেন; ফ্রিল্যান্স ও আউটসোর্সিং কমিউনিটিতে জিজ্ঞেস করলে রেফারেন্স পাওয়া যায়।

আর মনে রেখো — এই পর্ব আইনি পরামর্শ না। নিয়ম দেশভেদে আলাদা এবং বদলায়; বড় সিদ্ধান্তের আগে যোগ্য কারও পরামর্শ নাও।


এই সপ্তাহের কাজ

  • তিনটা কাঠামোর তুলনা টেবিলটা দেখে ঠিক করো তুমি কোনটা চাও, আর কেন — এটা প্রথম কলেই কাজে লাগবে (পর্ব ৮)।
  • ওই EOR-এর বাক্যটা মুখস্থ রাখো; “আমরা তোমার দেশে নিতে পারি না” শোনার সাথে সাথে কাজে লাগবে।
  • একটা ফাইলে তোমার চুক্তি-চেকলিস্ট (উপরের আটটা লাইন) রেখে দাও।
  • ইতিমধ্যে কোনো কন্ট্রাক্টে থাকলে, আজই নিজের IP ক্লজটা পড়ে দেখো — তোমার সাইড প্রোজেক্ট ও পাবলিক লেখা এর ভেতরে পড়ে কি না।

পরের পর্ব — পেমেন্ট আর ট্যাক্স: বাংলাদেশে টাকাটা আসলে কীভাবে আসে, কোন চ্যানেলে কত খরচ, ইনভয়েস ও রেকর্ড, আর কর কাঠামোর যে অংশটা ফ্রিল্যান্সার ও রিমোট কর্মীদের জানতেই হয়।