Skip to content

ফ্রিল্যান্সিং: জিরো থেকে প্রো — পর্ব ১১: লেভেলে ওঠা

Fiverr-এর New freelancer → Level 1 → Level 2 → Top Rated আর Upwork-এর Rising Talent → Top Rated → Top Rated Plus ও Expert-Vetted — বাস্তব শর্ত, সময়সীমা, গ্রেস পিরিয়ড, আর কী ভাঙলে ব্যাজ চলে যায়।

Fiverr-এর New freelancer → Level 1 → Level 2 → Top Rated আর Upwork-এর Rising Talent → Top Rated → Top Rated Plus ও Expert-Vetted — বাস্তব শর্ত, সময়সীমা, গ্রেস পিরিয়ড, আর কী ভাঙলে ব্যাজ চলে যায়।


একই গিগ, একই দাম, তিনগুণ মেসেজ

আল-ফারাবি Fiverr-এ Level 2 হয়েছে গত মার্চে। তার গিগে সে কিছুই বদলায়নি — একই টাইটেল, একই ছবি, একই ৯৫ ডলারের প্যাকেজ।

ফেব্রুয়ারিতে তার গিগে ইনকোয়ারি এসেছিল ৯টা, অর্ডার ৪টা। এপ্রিলে ইনকোয়ারি ২৭টা, অর্ডার ১১টা। আয় দ্বিগুণের বেশি, খাটুনির ধরন এক।

কারণটা রহস্যময় কিছু না, দুই স্তরের। প্রথম স্তর — সার্চ। প্ল্যাটফর্ম তোমার লেভেলকে একটা সংকেত হিসেবে ব্যবহার করে যে তোমাকে ক্লায়েন্ট পাঠানো নিরাপদ, তাই একই সার্চে তোমার অবস্থান উপরে ওঠে। দ্বিতীয় স্তর — মানুষ। সার্চ পাতায় দুটো গিগ পাশাপাশি, দাম প্রায় সমান, একটার নিচে একটা ব্যাজ — ক্লিকটা কোথায় যাবে সেটা আর প্রতিভার প্রশ্ন না, ঝুঁকির প্রশ্ন।

লেভেল একটা পুরস্কার না, একটা বিতরণ ব্যবস্থা। তুমি লেভেলের জন্য কাজ করো না; তুমি ভালো কাজ করো, আর লেভেল সেই কাজের ফলটা বহুগুণ করে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু ব্যবস্থাটা কীভাবে চলে সেটা জানা থাকলে একই খাটুনিতে তুমি ছয় মাস আগে পৌঁছাতে পারো।

নিচের সব শর্ত ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্ল্যাটফর্মের নিজের পেজে যা লেখা ছিল সেই অনুযায়ী, আর দুটো প্ল্যাটফর্মই এগুলো নিয়মিত বদলায়। এই পর্বে যেখানে যেখানে কাঠামোর কথা বলা হয়েছে সেটা টিকবে; নির্দিষ্ট সংখ্যাগুলো তোমার নিজের অ্যাকাউন্টের লেভেল পেজে গিয়ে দেখে নাও — Fiverr তোমাকে ড্যাশবোর্ডেই দেখায় কোন মেট্রিকে তুমি কোথায় দাঁড়িয়ে, আর ওটাই একমাত্র নির্ভরযোগ্য সূত্র। ইউটিউব বা ব্লগের সংখ্যা প্রায়ই এক-দুই বছরের পুরোনো।


১. লেভেল আসলে কী কেনে

চারটা জিনিস, আর কেবল প্রথমটাই দৃশ্যমান:

  • দৃশ্যমানতা — সার্চে ভালো অবস্থান, বেশি ইম্প্রেশন, বেশি ইনভাইট।
  • বিশ্বাস — একই প্রপোজাল বা গিগ ব্যাজসহ পড়লে অন্যভাবে পড়া হয়, বিশেষ করে বড় বাজেটের ক্লায়েন্টের কাছে।
  • টুল — বেশি অ্যাক্টিভ গিগ, বাড়তি ফিচার, কোথাও কোথাও নির্দিষ্ট ক্লায়েন্টের কাছে অগ্রাধিকার।
  • নগদ প্রবাহ — এটাই সবচেয়ে কম আলোচিত অথচ সবচেয়ে বাস্তব সুবিধা। Fiverr-এ সাধারণ ক্লিয়ারিং সময় ১৪ দিন, কিন্তু Top Rated ও কিছু প্রোগ্রামে সেটা কম, আর আগাম পেআউটের সুবিধাও ওখানেই। Upwork-এ Top Rated ও Top Rated Plus-এ পেমেন্ট দ্রুততর।

শেষটা বাংলাদেশ থেকে কাজ করা কারও জন্য সরাসরি টাকার হিসাব: টাকা সাত দিন আগে হাতে আসা মানে তোমার ব্যবসার চলতি মূলধন সাত দিন কম আটকে থাকা।


২. Fiverr-এর সিঁড়ি, আর ছয়টা মেট্রিক

Fiverr-এর ধাপগুলো এখন: New freelancer → Level 1 → Level 2 → Top Rated, আর এই সিঁড়ির নিচে একটা ধাপ আছে — Level 0, যেখানে পারফরম্যান্স খারাপ হলে নামানো হয়।

প্রতিটা ধাপের শর্ত মাপা হয় ছয়টা মেট্রিকে, আর উপরে উঠতে ছয়টাতেই যোগ্য হতে হয় — একটাতে ঘাটতি থাকলে বাকি পাঁচটা যতই ভালো হোক, লেভেল আসবে না:

মেট্রিককী গোনা হয়
Success Scoreগিগভিত্তিক পারফরম্যান্স স্কোর — পর্ব ১০-এর ছয় অক্ষ
রেটিংশেষ দুই বছরের ক্লায়েন্ট রেটিংয়ের গড়
রেসপন্স রেটনতুন মেসেজের প্রথম উত্তর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে, শেষ ৯০ দিনের হিসাবে
অর্ডার সংখ্যাসম্পন্ন অর্ডারের মোট সংখ্যা
ইউনিক ক্লায়েন্টকতজন আলাদা ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করেছ — একজন যতবারই অর্ডার দিক, গোনা হয় একবার
মোট আয়Fiverr-এ তোমার সর্বমোট আয়

“ইউনিক ক্লায়েন্ট” মেট্রিকটা কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আর সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। একজন ক্লায়েন্ট তোমাকে দশটা অর্ডার দিলে সেটা আয়ের জন্য চমৎকার, কিন্তু ইউনিক ক্লায়েন্টের ঘরে সংখ্যা একই থাকে। মানে রিপিট ক্লায়েন্ট তোমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাড়ায়, নতুন ক্লায়েন্ট তোমার লেভেল বাড়ায় — আর দুটোই দরকার। যদি দেখো লেভেলে আটকে আছ অথচ আয় বাড়ছে, প্রথমে এই ঘরটা দেখো।

যেভাবে ওঠা হয়: Level 1 আর Level 2-এর ছয়টা শর্তই পূরণ হলে তুমি পরের দিনের মধ্যেই উপরে উঠে যাও। কোনো নির্দিষ্ট তারিখের জন্য অপেক্ষা নেই।

পুরোনো গাইড এখানে সবচেয়ে বেশি ভুল। এখনো বহু টিউটোরিয়ালে শুনবে “প্রতি মাসের ১৪ তারিখে ইভ্যালুয়েশন”, “৬০ দিন সিনিয়রিটি লাগবে”, “order completion rate ৯০% আর on-time delivery ৯০% লাগবে”। এই তিনটাই আর লেভেলের শর্ত না। নির্দিষ্ট তারিখের মূল্যায়ন উঠে গেছে, সিনিয়রিটি আলাদা শর্ত হিসেবে নেই, আর অর্ডার কমপ্লিশন ও অন-টাইম ডেলিভারি এখন Success Score-এর ভেতরে ঢুকে গেছে — আলাদা করে গোনা হয় না। তুমি যদি ২০২৩–২৪ সালের কোনো রোডম্যাপ ধরে চলো, তুমি ভুল জিনিস তাড়া করছ।


৩. Top Rated: এখানে একজন মানুষ বসে আছে

Level 1 আর Level 2 স্বয়ংক্রিয়, কিন্তু Top Rated না। ছয়টা মেট্রিকে যোগ্য হওয়ার পরেও Fiverr-এর একটা মূল্যায়ন টিম হাতে করে তোমার অ্যাকাউন্ট দেখে অনুমোদন দেয়। কিছু ক্যাটাগরিতে বাড়তি শর্ত বা বাধ্যতামূলক স্কিল টেস্টও থাকে।

এর তিনটা ব্যবহারিক ফল আছে:

  • যোগ্যতা মানে নিশ্চয়তা না। শর্ত পূরণ করলেই ব্যাজ আসে না — ওটা রিভিউয়ের দরজা খোলে মাত্র।
  • চাহিদা প্রভাব ফেলে। মূল্যায়ন টিম যেসব ক্যাটাগরিতে বেশি Top Rated ফ্রিল্যান্সার দরকার সেখানে বেশি মনোযোগ দেয়। মানে তোমার ক্যাটাগরি ছোট বা অতিরিক্ত ভরা হলে অপেক্ষা লম্বা হতে পারে — এটা তোমার কাজের রায় না।
  • না হলে ছয় মাস। অনুমোদন না পেলে ইমেইলে মূল কারণ জানানো হয়, তুমি Level 2-তেই থাকো, আর মেট্রিক যোগ্য থাকলে ছয় মাস পরে আবার রিভিউয়ের সুযোগ আসে।

তাই Top Rated-কে ক্যালেন্ডারের লক্ষ্য বানিও না। যেটা তোমার হাতে সেটা হলো ছয় মেট্রিকে ধারাবাহিকভাবে যোগ্য থাকা, বিরোধ শূন্যের কাছাকাছি রাখা, আর অপেক্ষা করা।


৪. লেভেল হারানো, আর গ্রেস পিরিয়ড

নামার ব্যবস্থাটা ওঠার চেয়ে ধীর, আর এটা তোমার পক্ষে।

কোনো মেট্রিক তোমার বর্তমান লেভেলের শর্তের নিচে নামলে তুমি সাথে সাথে নামো না — একটা ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড শুরু হয়। ওই সময়ের মধ্যে সংখ্যাটা ঠিক করতে পারলে কিছুই হয় না। না পারলে তোমাকে তোমার বর্তমান পারফরম্যান্স অনুযায়ী লেভেলে নামিয়ে দেওয়া হয় — সবচেয়ে খারাপ ক্ষেত্রে Level 0 পর্যন্ত।

গ্রেস পিরিয়ডকে কীভাবে ব্যবহার করবে, সেটা নির্ভর করে কোন মেট্রিক পড়েছে তার উপর:

  • রেসপন্স রেট — সবচেয়ে দ্রুত ঠিক হয়, কারণ হিসাবটা শেষ ৯০ দিনের চলমান জানালা। ৩০ দিন কঠোরভাবে প্রতিটা নতুন মেসেজের উত্তর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিলে সংখ্যাটা ওঠে।
  • রেটিং — মাঝারি গতি, কারণ দুই বছরের গড়। নতুন ভালো রিভিউ দিয়ে টানতে হবে।
  • Success Score — সবচেয়ে ধীর, ইচ্ছাকৃতভাবে। এখানে ৩০ দিনে নাটকীয় কিছু ঘটবে না; যা করার তা হলো নতুন ঝুঁকি না নেওয়া — ছোট, পরিষ্কার স্কোপের অর্ডার, শূন্য ক্যানসেলেশন।
  • অর্ডার, ইউনিক ক্লায়েন্ট, আয় — এগুলো নামে না, শুধু বাড়ে। তাই এগুলোর জন্য গ্রেস পিরিয়ড আসে না।

গ্রেস পিরিয়ডে যেটা কোরো না: আতঙ্কে দাম অর্ধেক করে অর্ডারের বন্যা ডেকে আনা। ওটাই সবচেয়ে দ্রুত Level 0-তে নামার রাস্তা, কারণ সস্তা অর্ডারই সবচেয়ে বেশি বিরোধ ও ক্যানসেলেশন তৈরি করে।


৫. Upwork-এর ধাপ: Rising Talent

Upwork-এ “লেভেল” নেই, ব্যাজ আছে — আর প্রথমটা হলো Rising Talent, যেটা নতুনদের জন্য বানানো।

Rising Talent-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য: JSS ছাড়াও এটা পাওয়া যায়। ২০২৬-এর মাঝামাঝি হিসাবে শর্তগুলো মোটামুটি এই অক্ষগুলোতে — ১০০% সম্পূর্ণ ও সৎ প্রোফাইল, গত ৯০ দিনে সক্রিয়তা (প্রপোজাল পাঠানো বা কাজ করা), সাম্প্রতিক নেতিবাচক ফিডব্যাক না থাকা, ভালো গড় স্টার রেটিং, গত ১২ মাসে একটা ছোট ন্যূনতম আয়, আর JSS থাকলে সেটা ৯০%-এর উপরে থাকা।

লক্ষ করো তালিকাটায় কী নেই: অভিজ্ঞতার বছর, বড় আয়, বা লম্বা ইতিহাস কিছুই না। এর প্রায় সবটাই প্রথম মাসেই তোমার হাতে — প্রোফাইল সম্পূর্ণ করা, নিয়মিত প্রপোজাল পাঠানো, আর প্রথম কয়েকটা কাজ ভালোভাবে শেষ করা।

সুবিধাটাও নতুনদের জন্য বাস্তব: প্রোফাইল ও প্রপোজালে ব্যাজ দেখা যায়, একবারের জন্য কিছু ফ্রি Connects পাওয়া যায়, আর কনসাল্টেশন অফার করার সুযোগ খোলে। তাই Upwork-এ তোমার প্রথম আসল লক্ষ্য Top Rated না, Rising Talent — এটাই সেই ধাপ যেটা তোমার প্রথম ছয় মাসের প্রপোজালগুলোকে অন্যরকম করে পড়ায়।


৬. Top Rated ও Top Rated Plus: ধারাবাহিকতা আর আকার

Top Rated মোটামুটি প্ল্যাটফর্মের উপরের দিকের ১০% ফ্রিল্যান্সারকে চিহ্নিত করে। শর্তের কাঠামোটা তিনটা জিনিস চায় — উঁচু JSS, ধারাবাহিকতা, আর একটা ন্যূনতম বার্ষিক আয়।

ধারাবাহিকতার অংশটাই আসল শিক্ষা: ২০২৬-এর মাঝামাঝি অনুযায়ী শর্তটা হলো গত ১৬ সপ্তাহের অন্তত ১৩ সপ্তাহে ৯০%+ JSS ধরে রাখা, সাথে গত ১২ মাসে অন্তত এক হাজার ডলারের মতো আয়, সম্পূর্ণ প্রোফাইল আর ভালো অবস্থানে থাকা অ্যাকাউন্ট। মানে এক দিনের ভালো স্কোর কিছুই না — সিস্টেম দেখছে তুমি টানা কয়েক মাস স্থিতিশীল ছিলে কি না। আর এখানেই পর্ব ১০-এর শিক্ষাটা টাকায় রূপ নেয়: একটা ক্যানসেলেশন তোমার JSS-কে ৯০-এর নিচে নামালে সেটা শুধু একটা সংখ্যা না, ওটা তোমার Top Rated-এর ঘড়িটাও পিছিয়ে দেয়।

Top Rated Plus উপরের দিকের ৩%-এর মতো, আর এটা মেপে কাজের আকার দিয়ে। ২০২৬-এর মাঝামাঝি অনুযায়ী মোটামুটি: ৯০%+ JSS, গত ১২ মাসে দশ হাজার ডলারের মতো মোট আয়, আর গত ১২ মাসে অন্তত একটা “বড় কন্ট্রাক্ট” নেতিবাচক ফিডব্যাক ছাড়া শেষ করা।

“বড়” মানে কত — সেটা ক্যাটাগরিভেদে আলাদা, আর এটাই সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝা অংশ। ২০২৬-এর মাঝামাঝি Upwork-এর নিজের উদাহরণ অনুযায়ী Design & Creative, Engineering & Architecture, Legal, Translation ও Writing-এ সীমাটা পাঁচ হাজার ডলারের ঘরে, আর Accounting & Consulting, Admin, Data Science & Analytics, IT & Networking ও Sales & Marketing-এ দশ হাজারের ঘরে। সংখ্যাগুলো Upwork সময়ে সময়ে বাজার অনুযায়ী বদলায়, তাই নিজের ক্যাটাগরিরটা ব্যাজ পেজে দেখে নিও।

এই এক শর্ত তোমার কৌশল বদলে দেয়। অনেকগুলো ছোট কন্ট্রাক্ট দিয়ে Top Rated Plus-এ পৌঁছানো যায় না — পঞ্চাশটা দুইশো ডলারের কাজ করে দশ হাজার ডলার আয় হলেও ওই “বড় কন্ট্রাক্ট” ঘরটা খালি থেকে যায়। যেটা লাগে সেটা হলো একটা কন্ট্রাক্টকে বড় হতে দেওয়া — একই ক্লায়েন্টের সাথে মাসের পর মাস চলা একটা রিটেইনার বা একটা দীর্ঘ প্রোজেক্ট, প্রতিবার নতুন কন্ট্রাক্ট না খুলে। এটা মাথায় রেখে কন্ট্রাক্ট গঠন করাটা একটা সিদ্ধান্ত, আর সিদ্ধান্তটা এখনই নেওয়া যায়।


৭. Expert-Vetted, আর ব্যাজ হারানো

Expert-Vetted নিজের ক্ষেত্রের উপরের দিকের ১%-এর জন্য, আর এটা মূলত আমন্ত্রণভিত্তিক — Upwork নিজে যোগাযোগ করে, যদিও মাঝে মাঝে আবেদনের সুযোগও খোলে। প্রক্রিয়াটায় Talent Manager-দের সাথে কথা হয়, হার্ড ও সফট স্কিল যাচাই হয়, আর সাধারণত একটা আধা ঘণ্টার ইন্টারভিউ থাকে।

একটা কথা জানা থাকা ভালো: এই ব্যাজ সব ক্লায়েন্ট দেখে না — এটা দেখা যায় Enterprise ও Business Plus ক্লায়েন্টদের কাছে, আর এর মূল সুবিধা ওই স্তরের ক্লায়েন্টদের কাছে অগ্রাধিকার। তাই এটা তোমার প্রথম দুই বছরের লক্ষ্য না; এটা জেনে রাখার জিনিস, তাড়া করার জিনিস না।

ব্যাজ কীভাবে হারায় — এবং এই অংশটা মনোযোগ দিয়ে পড়ো, কারণ এখানে ভুলটা এক মেসেজেই হয়ে যায়। Upwork-এর বাইরে পেমেন্ট নিলে বা কন্ট্রাক্ট শুরুর আগে বারবার প্ল্যাটফর্মের বাইরে যোগাযোগ করলে তোমার Rising Talent, Top Rated বা Top Rated Plus ব্যাজ চলে যায়, আর ছয় মাস পর্যন্ত সেটা আবার অর্জনের যোগ্যতাই থাকে না। আরও ভারী ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ হতে পারে।

হিসাবটা করো: এক বছরের ধারাবাহিক কাজ দিয়ে বানানো একটা ব্যাজ, বনাম একটা কন্ট্রাক্টে বাঁচানো ১০% ফি। যে সম্পদ বানাতে বারো মাস লাগে, সেটা এক মেসেজে হারানোর মতো কোনো ছাড়ই যথেষ্ট বড় না।

Fiverr-এর দিকেও নীতিভঙ্গের ফল একই ধরনের — নীতিভঙ্গ ও ম্যানিপুলেশনের শাস্তি সতর্কবার্তা থেকে স্থায়ী সাসপেনশন পর্যন্ত যায়, আর সেখানে গ্রেস পিরিয়ড বলে কিছু নেই। প্ল্যাটফর্মের বাইরে যাওয়ার ঝুঁকির পুরো ছবিটা পর্ব ১৪-এ।


৮. এক বছরের একটা বাস্তব ছক

এটা প্রতিশ্রুতি না, একটা ছন্দ — ধরে নেওয়া হচ্ছে তুমি সপ্তাহে ২০–২৫ ঘণ্টা দিচ্ছ, একটা প্ল্যাটফর্মে মনোযোগ দিচ্ছ, আর নিশটা পর্ব ৩-এর পদ্ধতিতে যাচাই করা।

সময়Fiverr-এ লক্ষ্যUpwork-এ লক্ষ্য
মাস ১–২গিগ লাইভ, প্রবেশ পথ অফার, প্রথম ২–৩ অর্ডারপ্রোফাইল ১০০%, প্রতিদিন প্রপোজাল, প্রথম ২টা কন্ট্রাক্ট → প্রথম JSS
মাস ৩–৪ইউনিক ক্লায়েন্টের সংখ্যা বাড়ানো, শূন্য ক্যানসেলেশনRising Talent, আর একটা ক্লায়েন্টকে দীর্ঘমেয়াদে টানা
মাস ৫–৭Level 1-এর ছয় মেট্রিকে যোগ্যতা, দাম প্রথমবার বাড়ানোJSS ৯০%+ ধরে রাখা, টানা সপ্তাহের হিসাব শুরু
মাস ৮–১০Level 2-এর দিকে — আয় ও ইউনিক ক্লায়েন্টের ঘর ভরাTop Rated (১৩/১৬ সপ্তাহের ধারাবাহিকতা পূর্ণ হওয়া)
মাস ১১–১২Success Score স্থিতিশীল রাখা, Top Rated-এর রিভিউয়ের অপেক্ষাকন্ট্রাক্ট বড় করা — Top Rated Plus-এর ভিত্তি

দুটো জিনিস এই ছকে ইচ্ছাকৃতভাবে অনুপস্থিত। এক, কোনো মাসে “অনেক অর্ডার” নেই — সব লক্ষ্যই মেট্রিকের মান নিয়ে, সংখ্যা নিয়ে না। দুই, কোথাও দাম ভাঙার ধাপ নেই — কারণ লেভেলের সিঁড়িতে সস্তা অর্ডার তোমাকে উপরে তোলে না, নিচে নামায়।

আর সবচেয়ে বড় কথাটা শেষে: লেভেল পিছিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ ধীর গতি না, একটা খারাপ মাস। তিনটা তাড়াহুড়ো করে নেওয়া অর্ডার, দুটো ক্যানসেলেশন, একটা বিরোধ — আর ছয় মাসের অগ্রগতি এক ধাক্কায় মুছে যায়। তোমার কাজ দ্রুত ওঠা না; তোমার কাজ কখনো নিচে না নামা। উপরে ওঠাটা তাহলে সময় নিজেই করে দেয়।


এই সপ্তাহের কাজ

  • তোমার অ্যাকাউন্টের লেভেল বা ব্যাজ পেজটা খুলে ছয়টা মেট্রিকে (বা Upwork-এর শর্তগুলোতে) আজ তুমি ঠিক কোথায় সেটা লিখে ফেলো — অনুমান না, স্ক্রিনে যা লেখা তাই।
  • সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা একটা মেট্রিক বেছে নাও, আর পরের ৩০ দিনের পরিকল্পনা শুধু সেটার জন্য বানাও।
  • Fiverr-এ হলে ইউনিক ক্লায়েন্টের ঘরটা আলাদা করে দেখো — আয় বাড়ছে কিন্তু নতুন ক্লায়েন্ট আসছে না, এমন হলে সেটাই তোমার বাধা।
  • Upwork-এ হলে Rising Talent-এর শর্তগুলো এক এক করে মিলিয়ে দেখো; যেটা বাকি সেটা প্রায় সবসময় প্রোফাইল সম্পূর্ণতা বা সাম্প্রতিক সক্রিয়তা।
  • চলমান ক্লায়েন্টদের মধ্যে কোনটাকে একটা বড় ও দীর্ঘ কন্ট্রাক্টে পরিণত করা যায় — বেছে নাও, আর এই মাসেই প্রস্তাব দাও।

পরের পর্ব — প্রাইসিং ও রিটেইনার: দাম কখন ও কতটা বাড়াবে, প্যাকেজ পুনর্গঠন, আপসেলের সঠিক মুহূর্ত, আর এক-অর্ডারের ক্লায়েন্টকে মাসিক রিটেইনারে নিয়ে যাওয়ার পদ্ধতি।